আজীবন ঋণী
মাফরূহা বেগম
—————
ভুলে ভরা এ জীবনে অন্তহীন ভুল,
ভুলের মাশুল দিতে খুঁজে আমি
পাইনিতো কূল।
ভুলকে আপন ভেবে গচ্ছিত রেখেছি
নদীর কাছে, যেখানে হয়না দিতে ঋণ,
রেখেছি অরন্যের কাছে,
শীর্ণ পাতারা যেথা ঝরে পড়ে নিশিদিন।
যখন একাকিনী হাটি অরন্যের পথে
বাবার বিষন্ন স্মৃতি চলে সেইসাথে।
যার কাছে আমি আজীবন হয়ে আছি ঋণী,
সমস্ত সত্বা জুড়ে লেখা আছে সে বারতাখানি।
আজ অনুতাপে, অন্তর্দাহে পুড়ে যায় বুক,
দেখি আমি মোর মনে ভূলের অসুখ।
ফিরে পেতে চাই সেই শৈশব, স্বচ্ছতোয়া
নদীর জীবন।
স্মৃতির পাতা জুড়ে জাগে অনুক্ষণ।
ফিরে পেতে চাই হারানো সেই গল্পগাঁথা
বাবার স্মৃতির সাথে মিশে আছে কতকথা।
কোনদিন বাবা তুমি চাওনিতো কিছু মোর
কাছে, চেয়েছিলে দুদন্ড বসি তব পাশে।
রাখিনি সে কথাখানি হয়ে গেছে মিছে,
সে ব্যর্থতা আজ স্মৃতি হয়ে ফেরে মোর পিছে।
আমার যাবার পরে তুমি চলে গেছো
দূর থেকে বহুদূরে, কি এক অজানা ব্যথা
দিয়ে গেছ এই অন্তরে।
ক্ষমা কোরো বাবা তুমি যেখানেই থাকো,
ভালো থেকো, এই শুধু চাই মনে রেখো।
সুখে থাকো, রোগ শোক দুঃখ থেকে দূরে,
ঠাঁই যেন হয় তব স্রষ্টার বেহেশতের পূরে।