1. banglahost.net@gmail.com : rahad :
  2. salim@dailynewsporikroma.com : salim_porikroma :
  3. z2dUz2dz2dUz@example.com : z2dUz2dz2dUz :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১১:১৮ অপরাহ্ন
২০শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঘোষনা
এবার আরেক মাইলফলকে রোনালদো মানুষের মতো আইনগত অধিকার পেল নিউজিল্যান্ডের পাহাড় সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীমণি ঝড়, ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল আবার সড়কে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা, মহাখালী-গুলশান সড়কে যানচলাচল বন্ধ জামায়াত দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ধারার সূচনা করেছে : মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে জবি ক্রিকেট বিশ্লেষক সাংবাদিক দেব চৌধুরীর ইসলাম গ্রহণ এক বছর পর আজ মঞ্চে সাবিনা ইয়াসমিন ‘আমি ব্রিটিশ পুলিশ না, রাস্তায় আমার লোককে লাঠিপেটা করতে চাই না’ : ডিএমপি কমিশনার ছাত্ররা দল গঠন করবে: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

বছরের শুরুতে পাঠ্যবই না পেয়ে গাইড বইয়ের জন্য ছোটাছুটি শিক্ষার্থীদের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৬১ বার পঠিত

বছর শুরু হওয়ায় পর কুড়ি দিন চলে গেছে। কিন্তু এখনো শিক্ষার্থীরা সব পাঠ্যবই হাতে পায়নি। এ কারণে স্কুলগুলোতে এখনো ক্লাসই শুরু হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা বিকল্প হিসেবে গাইড বই কিনে পড়াশোনা শুরু করতে চেয়েছে। কিন্তু সেটিও লাইব্রেরিতে নেই। এর ফলে বই না পেয়ে বছরের শুরুতেই পড়াশোনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ছাপাখানার মালিকরা প্রতি বছরই বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর পাশাপাশি জানুয়ারির শুরুর দিকেই অনুশীলনমূলক বইয়ের নাম করে নোট-গাইড বই ছেপে বাজারজাত করেন। চলতি বছর বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ দেরি হওয়ায় এনসিটিবি প্রত্যেক ছাপাখানাকে লিখিত আদেশ দিয়ে বলেছে, বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নোট-গাইড বই ছাপা যাবে না।

এনসিটিবি শুধু এই আদেশ দিয়েই বসে থাকেনি, প্রত্যেক ছাপাখানায় নোট-গাইড বই যাতে ছাপা না হয় সেজন্য এনসিটিবি থেকে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে অভিযানও পরিচালনা করছে। এর ফলে মধ্য জানুয়ারি পার হয়ে গেলেও বাজারে নোট-গাইড বই সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই না পাওয়ায় নোট-গাইড বইয়ের চাহিদা তুঙ্গে উঠে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যের বইও পাচ্ছে না, নোট-গাইডও পাচ্ছে না।

এরকম পরিস্থিতিতে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান বরাবর এক আবেদনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) নেতারা বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শেষ করাসহ প্রকাশকদের বই (গাইড বই) প্রকাশের জন্য এনসিটিবির কাছে সম্মতি চেয়েছেন। আবেদনের বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আর পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে বলেছেন, ছাপার কাজ চলমান। দ্রুতই সব উপজেলায় শিক্ষার্থীরা সব বই পেয়ে যাবে। তার মতে, দেশের সব উপজেলায় অন্তত তিনটি করে বই সব শিক্ষার্থী পেয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকা সিন্দর খান চা বাগানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সবিতা চাষা জানায়, সে এখনো বই পায়নি। বই না পেলে সে পিছিয়ে পড়বে। এজন্য ভাইকে শ্রীমঙ্গল বাজারে পাঠিয়েছিল গাইড বই কেনার জন্য। কিন্তু লাইব্রেরিতে কোনো গাইড বইও নেই। পার্শ্ববর্তী বাহুবল উপজেলার অন্তত ৫টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা শিক্ষার্থীদের বলতে পারছেন না, কবে নাগাদ বই পাবে। শিক্ষকদের মতে, বই না পেয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই কমে গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শুরু থেকে বই না পাওয়ায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেশি ভুক্তভোগী। কারণ তারা যখন নবম শ্রেণিতে পড়া শুরু করেছিল; তখন পরীক্ষা পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নবম শ্রেণির পড়াশোনায়ও পরিবর্তন ঘটে। বছরের শুরুতে তারা যে পদ্ধতিতে পড়াশোনা করছিল- সেটি পরিবর্তন করে ২০১২ সালের সৃজনশীল পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হয়।

একই সঙ্গে বলা হয়, দশম শ্রেণিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে তারা নতুন বই পাবে। সেই বই এক বছর পড়ে ২০২৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। কিন্তু বছরের শুরুতে বই না পাওয়ায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কী লিখবে সে নিয়ে তারা উৎকন্ঠায় আছে। যদিও এনসিটিবি দশম শ্রেণির বই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাপানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এখনো এই শ্রেণির সাড়ে ৬ কোটি বই ছাপার কাজ শেষ করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, বই দিতে দেরি হওয়ায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সিলেবাস সংকুচিত করা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার মতিঝিল এলাকার দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাংলাবাজারের এক পরিচিত বইয়ের দোকান থেকে বেশি দাম দিয়ে ২০১২ সালের দশম শ্রেণির গাইড বই নিয়ে এসেছেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, দশম শ্রেণির বই আমরা এখনো দেখিনি। কিন্তু সরকার যখন বলছে, ২০১২ সালের কারিকুলাম ফিরিয়ে এনেছে তাহলে সেই বছরের গাইড বই পড়লে এগিয়ে থাকা যাবে। তবে এই যুক্তিতে তিনি ২০১২ সালের গাইড বই সংগ্রহ করতে পারলেও অন্যরা তা পারছে না। ফলে পড়াশোনায় মানসিক অশান্তি দেখা দিয়েছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) এনসিটিবিকে আবেদন দিয়ে অনুশীলনমূলক বই (নোট-গাইড বই) ছাপানোর কথা বলেছে। এবং ছাপার সম্মতি আদায় করতে তারা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৩০ লাখ পরিবারকেও টেনে এনেছে। কারণ গাইড বই ছাপানো থেকে বাঁধাইসহ বাজারজাতে যে শ্রমিক জড়িত তাদের পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। আবেদনে বলা হয়েছে, এনসিটিবি গাইড বই ছাপাতে না দেয়ায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাপাখানার মালিক বলেন, প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ পরিবার জড়িত। কিন্তু সহায়ক বইয়ের কাজ করতে না পেরে তারা অনেকটা বেকার জীবন পার করছেন। এজন্য তারা এনসিটিবিকে একটি আবেদন দিয়ে কতগুলো প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এতে এনসিটিবি এবং ছাপাখানা জগতের ৩০ লাখ পরিবারই ভালোভাবে থাকতে পারবে।

আবেদনে বলা হয়েছে, পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংগঠন। এই সংগঠনের সঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ পরিবার যুক্ত। আমরা প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত এনসিটিবিকে সব রকম সহযোগিতা করে আসছি। এ বছরও এনসিটিবি যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর ক্ষেত্রে বাপুস সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছে। গত দশ বছরে পাঠ্যবই ছাপানোর আগে অনুশীলনমূলক বই বাজারজাতকরণের কোনো নজির নেই। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও পাঠ্যবই ছাপা শেষ না হওয়ার আগে অনুশীলনমূলক বই ছাপানো ও প্রকাশের ক্ষেত্রে নিষেধ করে চিঠি দেয়া হয়েছে।

আবেদনে এও বলা হয়েছে, এ বছর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে বই সম্পাদনা ও ছাপা ক্ষেত্রে এনসিটিবি পিছনে পড়ে গেছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই সংকট উত্তরণ সম্ভব এবং বাপুসের পক্ষ থেকে এই সহযোগিতা করাও হচ্ছে।

কিন্ত অ্যাকাডেমিক পাবলিশার্সদের নোট-গাইড ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে সমিতি সদস্যদেরকে ঢালাওভাবে দায়ী করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাপুস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বাস্তবতা বিবর্জিত ও তথ্যবিহীনভাবে প্রকাশকদের দায়ী করা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাপুসের সদস্যদের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাপুস গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও বৈষম্যের চরম শিকার হয়েছে।

পাঠ্য বই ছাপা শেষ করার জন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়ে বলেছে, এর মধ্যে প্রাথমিকের ৮০ শতাংশ বই ছাপা হয়েছে। যে ২০ শতাংশ বই ছাপার বাকি আছে সেসব বই ছাপাতে বাপুসের সদস্যদের সরাসরি কাজ দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি যেসব ছাপাখানা এখনো প্রাথমিকের বই ছাপা শেষ করতে পারেনি তাদের কাজ শেষ করতে বাপুস সহযোগিতা করবে। চলতি বছরের বই ছাপানোর দ্বিতীয় ধাপের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত দশম শ্রেণির বই ছাপানো।

বাপুস বলেছে, প্রাথমিকের বই ছাপানো শেষ করে একইভাবে দশম শ্রেণির বই ছাপাতে সহযোগিতা করবে। বাপুস বলেছে, শিক্ষাক্ষেত্রকে তারা ব্যবসা মনে না করে সেবামূলক কাজ হিসেবে দেখে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সবার জন্য মানসম্মত বই প্রকাশ করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছে আস্থা অর্জন করেছে সংগঠনটি। এর ফলে ক্ষেত্রটি শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এখানে প্রায় ৩০ লাখ পরিবার উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি বহু লাইব্রেরি, বাইন্ডিং, প্রেস ও প্রকাশকদের লেখকসহ সবার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা অনিশ্চায়তার মধ্যে রয়েছে।

এনসিটিবি প্রাথমিক ও দশম শ্রেণির বইগুলো সফলতার সঙ্গে শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে তাই এই শ্রেণির অনুশীলনমূলক বইগুলো চলতি সপ্তাহ থেকে ছাপানো ও বাজারজাতকরণের সম্মতি চেয়েছে বাপুস। সংগঠনটি বলেছে, অনুশীলনমূলক বইয়ের সাইজ ২২ ইনটু ৩২ ইঞ্চি আর পাঠ্যবই ২০ ইনটু ৩০ ইঞ্চি। পাঠ্যবইয়ের কাগজ হোয়াইট আর অনুশীলনমূলক বইয়ের নিউজপ্রিন্ট। আর থাকল বাইন্ডিং। যাদের কম্পোজিট প্রেস রয়েছে সেখানে বাইন্ডিং-এর লোকবল স্থায়ী নিয়োগকৃত। কাজেই অন্য বাইন্ডারের লোক কাজ করার বা নেবার প্রশ্নই উঠে না।

সংগঠনটি বলেছে, আগামী বছর অ্যাকাডেমিক পাবলিশার্সরা কীভাবে পাঠ্যবই প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে তার ব্যাখা দিয়ে বলেছে, অ্যাকডেমিক পাবলিশার্সরা এনসিটিবির পাঠ্যবইয়ের পাণ্ডলিপি ঠিক সময়ে সম্পন্ন করে অনুমোদন নিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ছাপিয়ে বাজারজাত করে। এক্ষেত্রে এনসিটিবি ও পাবলিশার্স উভয় পক্ষই সফল। সম্পাদনার দক্ষতা এক্ষেত্রে প্রমাণিত। আগামী বছরে যদি এনসিটিবি সম্পাদনার কাজটি বেসরকারি খাতে অর্থাৎ বাপুসের মাধ্যমে করিয়ে নেন তাহলে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল বই সম্পাদনা করে এনসিটিবিকে জমা দেয়া যাবে।

এক্ষেত্রে এনসিটিবি আমাদের সম্পাদনার মান যাচাই করে নিতে পারে। চাইলে নতুন পাণ্ডলিপিও প্রস্তুত করে দেয়া যাবে। কারণ উচ্চ মাধ্যমিকের বইগুলো যথাসময়ে ছাপিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। এজন্য এনসিটিবির এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বেসরকারি খাত হিসেবে আমাদের সহযোগী হিসেবে যুক্ত করলে পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে একটুও দেরি হবে না।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Customized BY WooHostBD