বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জালিমরা পালিয়েছে, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবেই। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ও তার সহযোগীরা ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে তারপর তারা পালিয়েছে। এসব টাকা খুঁজে বের করে দেশে ফেরত আনতে হবে এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করে কারাগারে পাঠাতে হবে।’
আজ শুক্রবার সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মজলুমদের দল। আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তবুও আমাদের সংগ্রাম থামেনি। আমরা এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। দেশ বাঁচলে আমরা সবাই বাঁচব।’
আলেম-ওলামাদের ওপর দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আমাদের দুইজন আমির, একজন সেক্রেটারি জেনারেল, তিনজন নায়েবে আমিরসহ ১১ জন দায়িত্বশীল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। মুমিনরা কখনো কারও কাছে মাথা নত করে না। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ। যারা শহিদ হয়েছেন, তারা আমাদের জাতীয় আইকন। তাদের শহিদ হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, সাহসী মানুষ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারে না। আমরা শহিদদের কাছে ঋণী ও তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। এ ঋণ আমাদের আজীবন শোধ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানি খাতুনের করুণ মৃত্যু এখনো সবার মনে অমলিন দাগ কেটে রেখেছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১৫ বছরের নিরপরাধ কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে। তার লাশ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকার সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য আজও মানবতার প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।’
কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘দেশের মানুষ আর কোনো জুলুমকারীকে সহ্য করবে না। এক জালেম পালিয়েছে, নতুন কোনো জালেম এলেও তাকেও বিদায় করা হবে। মানুষ এখন মুক্তি চায়, তারা জুলুমের শাসন থেকে মুক্ত হতে চায়।’
কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও কুড়িগ্রাম জেলা আমির মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক আ. আজিজ নাহিদ প্রমুখ।