২০০২ সালে গোধরাকাণ্ডের পর গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালীন গণধর্ষণের শিকার হওয়া বিলকিস বানোর জীবনী নিয়ে এবার সিনেমা বানাতে চাইছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন অভিনেত্রী। এমনকি বলিউডের এই বিতর্কিত ও আলোচিত অভিনেত্রীর কাছে তৈরি রয়েছে চিত্রনাট্যও। কিন্তু, কোনও নির্মাতা অথবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম রাজি হচ্ছে না অভিনেত্রীর প্রস্তাবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি এক ভক্ত কঙ্গনাকে প্রশ্ন করেন, বিলকিসকে নিয়ে তিনি কোনও কাজ করতে চান কি না। সেই ভক্তর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘‘আমি অবশ্যই তার গল্প নিয়ে সিনেমা করতে চাই। আমি গত তিন বছর ধরে বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি, আমার কাছে চিত্রনাট্যও তৈরি আছে। কিন্তু কোনও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সিনেমাটা করতে চাইছে না, কারণ তারা কেউই রাজনীতি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে চায় না।’’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঙ্গনা আরও জানান, নামজাদা এক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নাকি তার সঙ্গে কাজ করতেই রাজি নয়, কারণ তাকে নাকি তারা ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থক বলে মনে করেন।
গত ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিলকিস বানোকে নিয়ে। ধর্ষকদের মুক্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাট সরকার, গত ৮ জানুয়ারি তা খারিজ করে দেন শীর্ষ আদালত। আদালতের এই বড় জয়ের পর তাই ইতিমধ্যে বলিউডে বিলকিসকে নিয়ে সিনেমা তৈরির আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গোধরাকাণ্ডের পর গুজরাটে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলাকালীন ৩ মে দাহোড় জেলার দেবগড় বারিয়া গ্রামে হামলা চালানো হয়। গ্রামের বাসিন্দা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিসকে গণধর্ষণ করা হয়। বিলকিসের চোখের সামনেই তাঁর তিন বছরের মেয়েকে পাথরে আছড়ে ফেলেন হামলাকারীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। তার পরিবারের আরো কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করা হয়।
এই অপরাধকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ আখ্যা দিয়ে মুম্বাইয়ের সিবিআই আদালতে কঠোর সাজার পক্ষে আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল ওই বিশেষ আদালত। পরে জেলে ওই ১১ জন ধর্ষক এবং খুনি ভালো আচরণ করেছেন, সে কারণেই তাদের সাজার মেয়াদ কমানো হয়েছে- এই যুক্তিতে তাদের ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানায় গুজরাট আদালত। মুক্তির পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ওই অপরাধীদের সংবর্ধনা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে ধর্ষকদের মুক্তির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাট সরকার, তা গত ৮ জানুয়ারি খারিজ করে দেন দেশের শীর্ষ আদালত। মুক্তি পাওয়া ওই ১১ জন ধর্ষককে আবার ফেরত যেতে হবে জেলে।