1. banglahost.net@gmail.com : rahad :
  2. salim@dailynewsporikroma.com : salim_porikroma :
  3. z2dUz2dz2dUz@example.com : z2dUz2dz2dUz :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ঘোষনা
এবার আরেক মাইলফলকে রোনালদো মানুষের মতো আইনগত অধিকার পেল নিউজিল্যান্ডের পাহাড় সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীমণি ঝড়, ১৪ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল আবার সড়কে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা, মহাখালী-গুলশান সড়কে যানচলাচল বন্ধ জামায়াত দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ধারার সূচনা করেছে : মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে জবি ক্রিকেট বিশ্লেষক সাংবাদিক দেব চৌধুরীর ইসলাম গ্রহণ এক বছর পর আজ মঞ্চে সাবিনা ইয়াসমিন ‘আমি ব্রিটিশ পুলিশ না, রাস্তায় আমার লোককে লাঠিপেটা করতে চাই না’ : ডিএমপি কমিশনার ছাত্ররা দল গঠন করবে: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

আমরা ৫ বছরের কাজ ১ বছরে করবো : রফিকুল ইসলাম খান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ৪৯ বার পঠিত

আল্লাহ তায়ালা ১৮ কোটি মানুষকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আর যারা জুলুম চালিয়েছেন, এরা অন্ধকারে চলে গেছে। অন্ধকারে কাউকে দেওয়ার দরকার হয় নাই, নিজেরাই চলে গেছে। তাদের আর সূর্যের আলোতে দেখা যায় না। এক গ্রুপ পালিয়ে গেছে, আরেক গ্রুপ অন্ধকারে চলে গেছে।

আমাকে একজন বলতেছিলেন, এক দেশের কথা, সেখানে তার বাড়িঘর আছে অনেকগুলি, তো দেখা হয়েছে এক জায়গায়, হোটেলে, সে জিজ্ঞাসা করছে যে, আপনি হোটেলে থাকেন কেন? কয় যে, ওইটা যে আমার বাড়ি, এইটা লোকেরা জানে আর কি, বাংলাদেশের লোকেরা। আমার কথা কি বুঝতে পারছেন আপনারা?

মানে তার যে বাড়ি আছে বিদেশে, এই বাড়ি যে তার, এইটা বাংলাদেশীরা জানে। এইজন্য বাংলাদেশের মানুষের ভয়ে তার নিজের বাড়িতে থাকে না। থাকে হোটেলে বিদেশে।

এই জীবন, এই রাজনীতির দুই পয়সার দাম আছে? এই চুরি-চামারির দুই পয়সার দাম আছে? এই দুর্নীতি করে বিদেশে বাড়ি বানানোর দুই পয়সার কোন মূল্য আছে?

সময়ের ব্যবধানে যুগে যুগেই যারাই এই জুলুম করেছে, তাদের পরিণতি এটাই হয়েছে। এর বাইরে কিছু হয় নাই।

আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীফে বলছেন, আমি প্রত্যেক জনপদেই ক্ষমতাবানদেরকে দুর্বিত্তে পরিণত হতে দেই, আর তারা একটার পর একটা ষড়যন্ত্রের জাল বোনে, আর সে জালে তারা নিজেরাই জড়িয়ে যায়, বুঝতে পারে না।

দেখেন, আমি খুব মিলায়ে দেখছি, যে ট্রাইবুনালে আমাদের নেতাদেরকে অন্যায়ভাবে-ষড়যন্ত্রমূলকভাবে, ইসলাম নির্মূলের উদ্দেশ্যে, মিথ্যা মামলা দায়ের করে, সাজানো সাক্ষী, প্রহসনের সাক্ষী এবং বিচারের রায় অন্য জায়গায় থেকে লিখে নিয়ে এসে, আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। সেই ট্রাইবুনালেই এখন যারা দিয়েছেন, তাদের বিচার শুরু হয়ে গেছে।

আজকের এই সম্মেলনে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, যারাই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত, যারা এই ফ্যাসিবাদের সাথে জড়িত, তারা বাংলাদেশে থাকুক আর বিদেশে থাকুক, যেখানেই থাকুক না কেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে, ট্রাইবুনালে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

শুধু তাই নয়, এখনো যারা সরকারের ভিতরে বাইরে ফ্যাসিবাদের দোসর আছেন, তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে এবং গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় তাদেরকে নিয়ে আসতে হবে। এইটা বাংলাদেশের শুধু জামায়াতের লোকদের দাবি না, এ দাবি এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি।

যারা আয়না ঘর তৈরি করে খুন এবং গুমের রাজনীতির নামে, বাংলাদেশের মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন চালিয়েছেন, এর সাথেও যারা জড়িত, এদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে। এদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

যারা এই বাংলাদেশে গণহত্যা পরিচালনা করেছেন, ছাত্রজনতার অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য, বাংলাদেশের মানুষের সকল দল-মত, শ্রেণী-পেশা, ধর্ম-বর্ণ, সকল শ্রেণীর মানুষের এখন গণদাবি, এই গণহত্যাকারীদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

আপনারা দেখবেন, আসলে জুলুমটা কিরকম চালাইছে? এইটা আসলে ভাষায় বর্ণনা করা যায় না । বাংলাদেশের মানুষ আসলে ভুইলা যায়।

আপনারা ৫ই আগস্টের আগের সিনারিটা একটু চিন্তা করেন। শুধু আমরা নয়, শুধু জামায়াত শিবির নয়, শুধু বিরোধী দল নয়, বাংলাদেশের কোন মানুষ নিরাপদে তাদের বাড়িঘরে থাকতে পারে নাই। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে নাই, চলাফেরা করতে পারে নাই, ঘুমাইতে পারে নাই। সরকারের অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলেছেন, তাদেরই টুটি চেপে ধরা হয়েছে।

আমি কয়দিন আগেই এক ঘটনা শুনছিলাম, সাতক্ষীরার ঘটনা, জামায়াতের এক কর্মীকে গ্রেফতারের জন্য তার বাড়িতে গিয়েছে। গ্রেফতার করতে গিয়ে রান্নাঘর থেকে শুরু করে, সব জায়গায়, গ্রামের মানুষের বাড়িঘর তো বোঝাই যায়, সব জায়গায় খুঁজে তাকে পাওয়া যায় নাই। সে আগেই টের পেয়েছিল। আগেই চলে গেছে। ফেরার সময় দেখে, যে বারান্দার এক কোনায় দাঁড়ায় আছে ক্লাস নাইনে পড়া একমাত্র ছেলে টগবগে কিশোর। তাকে ধরে নিয়ে এসে বাড়ির পাশেই রাস্তার উপর গুলি করে, ফেলে রেখে চলে আসছে।

এইরকম জুলুম চালিয়েছে যারা, এদের কোন ক্ষমা নাই। এদের কোন ক্ষমা নাই। এই দেশের মানুষেরা যেখানেই থাকুক, তাদেরকে খুঁজে বের করে, গ্রেফতার করে, বিচারের মুখোমুখি করবে।

আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, এই জাতীয় ক্রিমিনাল যারা সমাজে আছে, সেটা দলীয় হোক আর দলের নামে, অফিসের ব্যানারে দলীয় ক্যাডার বাহিনী যারা ছিল, হেলমেট বাহিনী যারা ছিল, এদেরকে চিহ্নিত করে, এদেরকে গ্রেফতার করে, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

আপনারা জানেন আমরা আগেও বলেছি, আওয়ামী লীগের আমলে দুই কোটি ভুয়া ভোটার বানানো হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনারের কাছে বলতে চাই, এই দুই কোটি ভুয়া ভোটার আপনারা কি করবেন তা বলতে হবে জাতিকে। তার কারণ যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে, এটা কোন দলীয় নির্বাচন কমিশন নয়। হাজার হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত যে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। কাজেই আওয়ামী লীগের ভোটার তালিকা অনুযায়ী সামনের ভোট নির্বাচন করার কোন সুযোগ নাই। ফ্রেশ ভোটার তালিকা করতে হবে।

এ ব্যাপারে জাতি ঐক্যবদ্ধ। গোজামিলের ভোটার তালিকা এদেশের মানুষ মানবে না, আপনারা মানবেন না।

এদেশের আমি বহু জায়গায় এ কথা বলছি ,সবাই বলছে যে, না, আমরা এই গোজামিলের ভোটার তালিকা মানি না।

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ৫৬০০০ বর্গ মাইলের এই বাংলাদেশে, আমরা একটি চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি দখলবাজ মুক্ত বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি আধুনিক বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই, আমরা একটি ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম করতে চাই, আমরা এই বাংলাদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই। এটাই হলো আমাদের লড়াই। এটা যতদিন কায়েম না হবে, ততদিন আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আর এক্ষেত্রে ইউনিট সভাপতি-সেক্রেটারিরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জামাত ইসলামীর কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে কাজের যারা মূল নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তি, তারা হলেন ইউনিট সভাপতি-সেক্রেটারি। আমি সব জায়গায় এ কথা বলছি, ইউনিট সচল, জামায়াত ইসলামী সচল। ইউনিট অচল, জামায়াত ইসলামী অচল। জামায়াত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মত কোন রাজনৈতিক দল নয়। জামায়াত হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলনের নাম।

সুতরাং আমি আপনাদের ইউনিট সভাপতি ভাইদের কাছে কয়েকটি অনুরোধ রাখতে চাই, এক নাম্বার অনুরোধ রাখতে চাই, যারা এখনো জামাতের রোকন হইতে পারেন নাই, কিন্তু ইউনিট সভাপতি-সেক্রেটারি রোকন হওয়া উচিত কিনা?

বলেন তো দেখি, আপনাদের মান উন্নয়ন হওয়া উচিত কিনা?

যেটা বলতেছিলাম, বাংলাদেশের মানুষ এখন আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, সর্বত্রই, এই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আদর্শ, সৎ, দক্ষ, যোগ্য, দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছে। এই অভাব পূরণ করতে হবে কাদের, আমাদেরকে।

কাজেই, মাঠ পর্যায়ের যারা আপনারা নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিত্ব, আপনাদেরকে সব জায়গায় এই সমাজ, এই সংগঠন, সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের নেতৃত্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, এটা হলো এক নাম্বার কথা।

দুই নাম্বার হলো, নিজেদেরকে যার যার জায়গায় মান উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। যারা আমরা এখনো রোকন হইতে পারিনি, আমরা সবাই আগামী তিন মাসের মধ্যে রোকন হব ইনশাআল্লাহ।

আপনার যে এলাকার নেতা, ভালো করে বুঝেন, আপনারা যে এলাকার নেতা, এই এলাকা জামায়াত ইসলামীর এলাকা হোক, আপনারা চান কিনা? এই এলাকা ইসলামী আন্দোলনের এলাকা হোক, এটা আপনারা চান? এই এলাকা দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব কায়েম হোক, এটা আপনারা চান?

আপনারা যদি রোকন হয়ে যান, তাহলে সেই কাজটা ত্বরান্বিত হবে, না পিছে যাবে?

আগায়ে যাবে, কি কথা ঠিক আছে কিনা। আগায় যেতে আপনারা চান না? এজন্য আমরা সবাই এখন থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যেই নিজেদেরকে রোকন মানে উন্নীত করব ইনশাআল্লাহ।

এবারে আমাদের পরিকল্পনা, আমরা এক বছরে পাঁচ বছরের কাজ করব ইনশাআল্লাহ। এটলিস্ট ডাবল জামায়াত, জামায়াত যেখানে যে অবস্থায় আছে, জামায়াত এর চাইতে ডাবল শক্তিশালী হবে আগামী এক বছরের ইনশাআল্লাহ।

এই এলাকায় সেটা করা যাবে না, করা যাবে? সেই ক্ষেত্রে এখন যেখানে একটা ইউনিট আছে, সেখানে আমরা এক বছর পরে কয়টা হবে? আমি আপনাদেরকে বলি, যদি পাঁচ বছরের কাজ করতে চান, তাহলে কয়টা হতে হবে? পাঁচটা। এটা সহজ কিনা?

সহজের ফর্মুলা দিয়ে দেই, আমি যখন অবিভক্ত মহানগরীর আমির ছিলাম, তখন আমি এই টাইপের প্রোগ্রাম প্রায়ই বলতাম এই কথাটা, এটা আপনাদের হাতে কিভাবে?

আপনার প্রত্যেক ইউনিটে মাসে একজন কর্মী বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। এটা কি করা যাবে? এটা কি কঠিন?

আমার কাছে মনে হয় মোটেই কঠিন নয়। এখন তো মানুষ সারাদেশে আপনারা লক্ষ্য করে দেখেন, জোয়ারের মত মানুষ জামায়াতে আসতেছে। আসতেছে কিনা? সর্বত্রই, খালি যে ঢাকায় তা না, গোটা বাংলাদেশে, যেখানে আপনার ৫০ জন লোকের সাধারণ সভা ডাকা হচ্ছে, সেখানে ৫০০ জড়ো হয়ে যাইতেছে আলহামদুলিল্লাহ।কাজেই এইটা করা খুব সহজ, প্রত্যেক মাসে প্রত্যেক ইউনিটে একজন কর্মী বানাবেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Customized BY WooHostBD